Call Us 24x7 01752078099

মুরগি পালন পদ্ধতি

মুরগি পালন পদ্ধতি

৫ মাস বয়সী দেশী ৩৬টি মুরগী ৪টি মোরগ ৪ লেয়ারের খাচায় পালন করে ডিম দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে বারান্দায় পালনের লাভজনক পদ্ধতির ৯০ দিনের বিস্তারিত জানান। খাচার ছবি দিলাম। = মুরগি পালন পদ্ধতি

জি। ১০% ডিম মানে ৩৬টি মুরগি থেকে দিনে গড়ে মাত্র ৩–৪টি ডিম, অর্থাৎ উৎপাদন এখন বেশ কম। তবে আপনার মুরগিগুলো যেহেতু মাত্র ৫ মাস বয়সী, তারা সদ্য laying শুরু করলে প্রথম দিকে এমন হতে পারে। কিন্তু আপনার খাবারের বর্তমান অনুপাতও ডিম কম হওয়ার একটি বড় কারণ হতে পারে।

১) আপনার বর্তমান খাবারের প্রধান সমস্যা

আপনি প্রতিদিন মোট ৪ কেজি দিচ্ছেন:

  • ধান ১ কেজি
  • গমের ভুষি ১ কেজি
  • লেয়ার ফিড ১ কেজি
  • চিড়া ১ কেজি

অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ লেয়ার ফিড মাত্র ২৫%। বাকি ৭৫% মূলত শক্তি/আঁশের খাবার। এতে পেট ভরছে, কিন্তু ডিম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, অ্যামিনো অ্যাসিড, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ও মিনারেল যথেষ্ট নাও হতে পারে।

ভাতের মার পুষ্টির বিকল্প নয়। মণ্ড নরম করতে ব্যবহার করতে পারেন, কিন্তু এতে ডিম বাড়বে না।


২) আপনার ৪০টি পাখির জন্য আমি এখন কী পরিবর্তন করব

আগামী ৩০ দিন একটি পরীক্ষামূলক feeding programme চালান।

প্রতিদিন মোট প্রায় ৪ কেজি শুকনা উপাদান ধরে:

খাবার প্রতিদিন
লেয়ার ফিড ২.৭ কেজি
ভাঙা চাল/ধান ০.৫ কেজি
গমের ভুষি ০.৪ কেজি
চিড়া ০.২ কেজি
সয়াবিন মিল/সয়াবিন খৈল ০.২ কেজি
মোট ৪.০ কেজি

এতে লেয়ার ফিড ২৫% → প্রায় ৬৮% হবে।

চিড়া ১ কেজি থেকে ২০০ গ্রামে নামিয়ে দিন। চিড়া খুব বেশি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

মণ্ড করার সময়

এই শুকনা খাবারগুলো মিশিয়ে অল্প ভাতের মার/পরিষ্কার পানি দিয়ে হালকা ভেজা মণ্ড করতে পারেন।

কিন্তু:

সকাল ২ কেজি + বিকেল ২ কেজি আলাদা করে তৈরি করবেন।

সকালের মণ্ড বিকেল পর্যন্ত রেখে দেবেন না।


৩) দেশীয় ঘরের খাবার—কোনগুলো ডিমের জন্য ভালো?

আপনি দুপুরে শাক-সবজি দেওয়া চালিয়ে যেতে পারেন।

🥬 ভালো শাক

  • কলমি শাক
  • লাল শাক
  • পুঁইশাক
  • ডাঁটা/পাতা
  • কচি ঘাস
  • কচি লাউপাতা

🥕 সবজি

  • কুমড়া
  • লাউ
  • পেঁপে
  • গাজর
  • শসা
  • মিষ্টি আলু সেদ্ধ করে অল্প

৪০টি পাখির জন্য দুপুরে মোট ৫০০–৮০০ গ্রাম দিয়ে শুরু করুন। খুব বেশি শাক-সবজি দিয়ে পেট ভরাবেন না।


৪) ডিমের জন্য ঘরের সবচেয়ে মূল্যবান খাবারগুলো

🥚 ১. সয়াবিন খৈল/সয়াবিন মিল

এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘরোয়া feed ingredient-গুলোর একটি।

আপনার ৪ কেজি দৈনিক রেশনে প্রায় ২০০ গ্রাম দিয়ে শুরু করতে পারেন।

এটি প্রোটিন বাড়াতে সাহায্য করবে।

🐟 ২. শুকনা মাছের গুঁড়া

যদি ভালো মানের পরিষ্কার শুকনা মাছ পাওয়া যায়, অল্প পরিমাণ ব্যবহার করা যায়।

৪০টি পাখির জন্য দৈনিক ৫০–১০০ গ্রাম দিয়ে শুরু করা যথেষ্ট।

কিন্তু নোনতা শুকনা মাছ ব্যবহার করবেন না।

🌾 ৩. ভাঙা চাল

ধানের পরিবর্তে ভাঙা চাল ব্যবহার করলে হজমযোগ্য শক্তির উৎস হিসেবে ভালো।

প্রায় ৫০০ গ্রাম/দিন রাখতে পারেন।

🌽 ৪. ভুট্টা

ভাঙা ভুট্টা থাকলে ধান/ভাঙা চালের কিছু অংশের পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারেন।

🥬 ৫. সবুজ শাক

দুপুরে অল্প পরিমাণে নিয়মিত দিন।


৫) ক্যালসিয়াম—আপনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

ডিমের খোসা তৈরিতে প্রচুর ক্যালসিয়াম লাগে।

আপনার মুরগি এখন ডিম দেওয়া শুরু করছে বলে ক্যালসিয়ামের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

একটি আলাদা পাত্রে feed-grade limestone/calcium grit বা oyster shell রাখতে পারেন, যাতে মুরগি প্রয়োজন অনুযায়ী খেতে পারে।

ডিমের খোসা খুব পাতলা হলে বা সহজে ভেঙে গেলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।

শুধু রান্নাঘরের ডিমের খোসা দিয়ে পুরো calcium requirement পূরণ করার চেষ্টা করবেন না।


৬) ভাতের মার দেওয়া কি বন্ধ করবেন?

পুরোপুরি বন্ধ করার দরকার নেই।

কিন্তু এটাকে খাবার হিসেবে নয়, মণ্ড করার জন্য পানি হিসেবে ভাবুন।

যেমন:

লেয়ার ফিড + ভাঙা চাল + ভুষি + সয়াবিন মিল → অল্প পরিষ্কার পানি/ভাতের মার → মণ্ড

মণ্ড যেন খুব পাতলা না হয়।


৭) আপনার ১০% ডিম কেন হচ্ছে—শুধু খাবারই কারণ নয়

এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার ৩৬টি মুরগির মধ্যে মাত্র ৩–৪টি ডিম/দিন হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।

সম্ভাব্য কারণ

১. বয়স: ৫ মাসে অনেক দেশি মুরগি এখনও পূর্ণ production-এ যায়নি।

২. খাবার: আপনার বর্তমান ration-এ layer feed মাত্র ২৫%।

৩. আলো: ডিম উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত দৈনিক আলো গুরুত্বপূর্ণ।

৪. শরীরের ওজন: অতিরিক্ত রোগা বা অতিরিক্ত মোটা হলে production কমতে পারে।

৫. কৃমি: intestinal parasites থাকলে feed খেয়েও production কম হতে পারে।

৬. রোগ: Newcastle, infectious bronchitis ইত্যাদির প্রভাব থাকতে পারে।

৭. broody tendency: দেশি মুরগির তা দেওয়ার প্রবণতা বেশি। একটি মুরগি তা দেওয়ার দিকে গেলে ডিম কমে যায়।

৮. গরম: বাংলাদেশের অতিরিক্ত গরমে feed intake ও egg production কমতে পারে।

৯. মোরগ: ৪টি মোরগ ৩৬টি মুরগির জন্য মোটামুটি ভালো অনুপাত। তবে মোরগের অতিরিক্ত mating/stress থাকলে মুরগি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


৮) আমি আপনাকে ৩০ দিনের একটি পরীক্ষা করতে বলব

আজ থেকে প্রতিদিন লিখবেন:

তারিখ | খাবার | মোট ডিম | ভাঙা ডিম | পাতলা খোসা | অসুস্থ মুরগি

উদাহরণ:

দিন মোট ডিম

লক্ষ্য

বর্তমান:

৩–৪ ডিম/দিন

প্রথম লক্ষ্য:

৬–৮ ডিম/দিন

তারপর:

১০–১২+ ডিম/দিন

মুরগিগুলো বয়সের সঙ্গে পূর্ণ laying stage-এ গেলে আরও বাড়তে পারে।


৯) একটা গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন

আমি আগের উত্তরে ৪০টি পাখির জন্য প্রতিদিন ৪ কেজি feed ধরে হিসাব করেছিলাম। আপনার বর্তমান feeding pattern দেখে এখন আমি বলব:

৪ কেজি শুকনা উপাদান একটি starting point হিসেবে রাখুন, কিন্তু মুরগির বাস্তব খাওয়ার পরিমাণ দেখে সমন্বয় করবেন।

কারণ দেশি মুরগির বয়স, ওজন, free movement, আবহাওয়া ও production অনুযায়ী intake পরিবর্তিত হয়।

মুরগি কতটা খাচ্ছে এবং খাবার পড়ে থাকছে কি না—এটাও ৭ দিন পর্যবেক্ষণ করুন।


⭐ আপনার জন্য আমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি পরিবর্তন

১. লেয়ার ফিড ১ কেজি → ২.৭ কেজি করুন।
২. ধান/চিড়া অনেক কমিয়ে ভাঙা চাল/ভুট্টা ব্যবহার করুন।
৩. ২০০ গ্রাম সয়াবিন মিল/খৈল যোগ করুন।
৪. আলাদা পাত্রে feed-grade calcium grit/limestone রাখুন।
৫. প্রতিদিন ডিমের সংখ্যা লিখুন এবং ৩০ দিন পর্যবেক্ষণ করুন।

আর অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে ডিম বাড়ানোর চেষ্টা করবেন না। কৃমি বা রোগের সন্দেহ হলে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা/ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শে চিকিৎসা করুন।

আপনার ক্ষেত্রে আমি বিশেষভাবে বলব:

এখনই ৬০–৭০% লেয়ার ফিডে যাওয়াটা ৩০ দিন পরীক্ষা করুন। কারণ আপনার লক্ষ্য শুধু ডিম খাওয়া নয়—fertile egg → বাচ্চা → breeding business। তাই সস্তা খাবার দিয়ে পেট ভরানোর চেয়ে সুষম পুষ্টি দিয়ে fertile egg ও hatchability বাড়ানো আপনার জন্য বেশি লাভজনক হবে।

আপনি চাইলে আপনার বর্তমান ১ কেজি লেয়ার ফিডের দাম, ১ কেজি ধানের দাম, ভুষি, চিড়া, সয়াবিন খৈল এবং শুকনা মাছের দাম দিলে আমি ঠিক আপনার এলাকার দামে ৪০টি পাখির ৩০ দিনের “সর্বনিম্ন খরচে সর্বোচ্চ ডিম” feed formula বের করে দিতে পারি।

Cart

Cart

Your Cart is Empty

Back To Shop
Continue Shopping
Payment Details
Sub Total 0.00৳